বই পরিমার্জনের জন্য গঠিত কমিটি তের দিনের মাথায় বাতিল করে দিয়েছে সরকার।
বাংলাদেশে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) কর্তৃক গঠিত পাঠ্যপুস্তক সংশোধন ও পরিমার্জন কমিটি বাতিলের পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। তবে কমিটি বাতিলের কোনো কারণ এনসিটিবি বা শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশ করা হয়নি।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর গঠিত এই কমিটির দুজন সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন এবং সামিনা লুৎফার বিষয়ে ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলোর আপত্তি ছিল। তাদের দাবিতে কমিটি পুনর্গঠনের আহ্বান জানানো হয়।
এনসিটিবি চেয়ারম্যান এবং বাতিল হওয়া কমিটির সদস্য অধ্যাপক এ কে এম রিয়াজুল হাসান জানিয়েছেন যে কমিটি বাতিলের কারণ তিনি জানেন না। তবে তিনি আশ্বস্ত করেন যে পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জন কার্যক্রমে এই বাতিলের কোনো প্রভাব পড়বে না, কারণ সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
এনসিটিবি বলছে কমিটি বাতিল হলেও পরিমার্জনের কাজ চলছে।
অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন এই বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান, এবং সামিনা লুৎফাও কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি। উল্লেখ্য, দুজনই শিক্ষক নেটওয়ার্কের সাথে জড়িত ছিলেন।
অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ মনে করেন, সরকারের পক্ষ থেকে ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলোর দাবির প্রতি নমনীয় হওয়া দীর্ঘমেয়াদে দেশের জন্য ক্ষতিকর হয়েছে এবং এটি এখনো প্রতিফলিত হচ্ছে। তিনি মনে করেন, ধর্মীয় সংগঠনগুলোর চাপের কাছে নতি স্বীকার করা দেশের জন্য ক্ষতিকর পাঠ্যপুস্তক নিয়ে সরব হয়েছে বেশ কয়েকটি ধর্মভিত্তিক সংগঠন
আগের বছরগুলিতে ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলোর দাবির মুখে পাঠ্যপুস্তক পরিবর্তন করা হয়েছিল, যেমন হেফাজতে ইসলামের দাবিতে ২০১৭ সালের বইগুলোতে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। এ বছরও হিজড়া জনগোষ্ঠী নিয়ে সপ্তম শ্রেণির বইয়ে থাকা সচেতনতামূলক একটি পাঠ্য সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ধর্মভিত্তিক সংগঠনের দাবিতে।
অনেকেই মনে করছেন, এই পাঠ্যপুস্তক সংশোধন কমিটি বাতিলের পেছনে ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলোর চাপই মূল কারণ।
একটি ধর্মভিত্তিক সংগঠন চাপে আওয়ামী লীগ সরকার পাঠ্যবইতে অনেক পরিবর্তন এনেছিল
শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পাঠ্যপুস্তক সংশোধন বা পরিমার্জনে সঠিকভাবে পরিকল্পনা করা হয়নি, এবং সবার অংশগ্রহণে একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করে ভবিষ্যতে পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষাক্রমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা উচিত।
.png)

If you have any doubts, please late me know.