সাবের হোসেন চৌধুরী এখন কী করবেন? তাকে দিয়ে কী করানো হতে পারে? সাবেক পরিবেশমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী কি আওয়ামী লীগ থেকে সরে দাঁড়াবেন? তিনি কি ইসলামপন্থি কোনো দলের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত হয়েছেন? ইসলামপন্থি দলগুলোর যে জোট গঠনের আলোচনা চলছে, তিনি কি সেই জোটে যোগ দেবেন?
এসব নানা প্রশ্ন আর গুঞ্জন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সাবেক আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক সাবের হোসেন চৌধুরীকে ঘিরে। একাধিক খুনের মামলায় গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে থাকাকালীন তার জামিন হওয়ায় তাকে নিয়ে কৌতূহল বেড়েই চলছে। কেউ বলছে, সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা হয়েছে, কেউ বলছে পশ্চিমাদের চাপ রয়েছে। আবার কেউ বলছে, সুশীল সমাজের প্রেসক্রিপশনের ফলেই সাবের চৌধুরী মুক্তি পেয়েছেন। যদিও আইনের দৃষ্টিতে স্বাস্থ্যগত কারণেই আদালত তাকে জামিন দিয়েছেন।
অনলাইন পোর্টাল বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলের প্রতিক্রিয়া জানার চেষ্টা করেছে। বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা স্পষ্টই বললেন, "ডাল মে কুছ কালা হায়।" তিনি বলেন, সাবের চৌধুরী মেধাবী, ধনী এবং আন্তর্জাতিক সংযোগে দক্ষ, তাই কোনো না কোনো সংযোগে তিনি ব্যবহৃত হবেন।
আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, সাবের চৌধুরীর যুক্তরাষ্ট্রে গভীর যোগাযোগ রয়েছে এবং তিনি পশ্চিমাদের প্রিয় ব্যক্তি। তিনি আইপিইউর (Inter-Parliamentary Union) সাবেক সভাপতি ছিলেন। তাই দেশের স্বার্থে তাকে অন্তর্বর্তী সরকার কাজে লাগাতে পারে, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।
সত্যিটা হলো, সাবের হোসেন চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগে কোণঠাসা ছিলেন এবং পুরোপুরি উপেক্ষিত ছিলেন। এক-এগারোর পর তাকে মনোনয়ন দিয়ে সংসদ সদস্য করা হলেও শেখ হাসিনার পূর্ণ আস্থা তিনি কখনোই অর্জন করতে পারেননি। সংসদে উপস্থিত থাকলেও দলীয় কর্মকাণ্ডে তার কোনো সক্রিয় ভূমিকা ছিল না। তাহলে ২০২৪ সালের হাসিনা মন্ত্রিসভায় তার স্থান হলো কীভাবে? ঢাকা টাইমস খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছে, মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতীয় লবিকে সন্তুষ্ট রাখতেই তাকে বন ও পরিবেশ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এর আগেই, ২০২৩ সালে তাকে জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তবে এক-এগারোর পর শেখ হাসিনার আস্থা হারানোর পর সেটি আর ফিরে পাননি।
দেশ-বিদেশে তার ইতিবাচক ভাবমূর্তি থাকার কারণে কেউ কেউ মনে করছেন, তার সেই ভাবমূর্তি কাজে লাগিয়ে তাকে দিয়ে আওয়ামী লীগ পুনর্গঠনের কাজও করানো হতে পারে। যদিও এ ধরনের কাজে সাবের চৌধুরী নিজে কতটা আগ্রহী বা শেখ হাসিনা সম্মত কিনা তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে ছয়টি হত্যা মামলায় অবিশ্বাস্য দ্রুততায় তার জামিন হওয়ায় কেউ কেউ তাকে ভাগ্যবান বলছেন।
বিএনপির আইনজীবী আনোয়ারুল ইসলাম বলছেন, সাবের হোসেন চৌধুরীর জামিন পাওয়া একটি বিরল এবং অস্বাভাবিক ঘটনা। সত্যিই কি তাই? এরপর কী হবে, সেটা দেখার অপেক্ষায় আমরা সবাই।
.png)

If you have any doubts, please late me know.